পোস্টগুলি

কেন সাহিত্য পড়ব

ছবি
 সাহিত্যের উদ্দেশ্য কি অর্থাৎ কোন কারণে এই গল্প কবিতা প্রবন্ধ উপন্যাস লেখা হয় তার সঠিক উত্তর আজ অবধি কোনো সাহিত্যিক, দার্শনিক দিতে পারেননি।  কোনো কোনো কবি বলেছেন কবিতার উদ্দেশ্য শুধু কবিতাই। কিন্তু সেখানেই আমাদের থেমে থাকলে তো চলে না। আমাদের ভাবতে হয়। কেন মানুষ কবিতা লেখে? কেন গল্প পড়ে? অনেকের কাছে বইপড়া একটা নেশার মত। লিটিল ম্যাগ বের করা একদল সাহিত্যিকের কাছে অনেকটা যুদ্ধ জয় করার আনন্দের কাছাকাছি।  কিন্তু এই যে সাহিত্য তা লেখা ও পড়া হয় কেন তার কথা ভাবতে গিয়ে কিছু ব্যাপার মাথায় আসে। এর যে একটা আর্থিক লাভ লোকসানের দিক আছে সেটা আসে লেখা , পড়া, ভালোলাগার পরে। তাই সেদিকে তাকানোর পূর্বে দেখতে হয় আগের কারণ গুলোকে। মনোরঞ্জন। সাহিত্য পড়ে যেমন পাঠক আনন্দ পান। লেখকেরও মনের ভার লাঘব হয়। প্রতিটা সৃষ্টিই আসে কিছু যন্ত্রণার বিনিময়ে। টুক করে কোনো সৃষ্টিশীল কাজ হয় না। তার অল্প হলেও প্রস্তুতি লাগে। তাই একটা লেখা লেখার আগে লেখককে এই প্রস্তুতি পর্বের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাকে ভাবতে হয় কি লিখব, কেনই'বা লিখব। তারপর শিশুর মত জন্ম নেয় একটা কবিতা, গল্প এমনকি প্রবন্ধও। পাঠকের হাতে সেই সাহিত্যকর্ম ...
চিন্তার ব্যাপার বইপত্রের গল্প

বাংলায় বর্গী হানা ও পলাশীর কিছু পুরনো কথা

ছবি
এ ইতিহাস পলাশীর যুদ্ধের থেকেও প্রাচীন। বাংলার মসনদে তখন সিরাজের দাদু আলীবর্দী খান।  নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্র চলেছেন মুর্শিদাবাদ দরবারে। সঙ্গে কয়েক লক্ষ টাকা; নানা উপঢৌকন। নবাবের কাছে বার্ষিক খাজনা দিতে হবে। বিন্দুমাত্র দেরি হওয়ার জো নেই। ঠিক সময়ে না পৌঁছালে বড়সর বিপত্তি। প্রজাপালক হিসাবে অলিবর্দীর খুব নামডাক কিন্তু শাসক হিসাবে তিনি কড়া। একটু বেশিই কড়া। খাজনা দিতে দেরি হলে বা দেয় খাজনায় কোনোরকম অসঙ্গতি থাকলে নির্মম ভাবে হত্যা করতে তাঁর হাত কাঁপে না। অত্যাচারের বিভিন্ন পন্থা আছে। আম জনতার সামনে চরম হেনস্থা করে বিষ্ঠার পুকুরে ডুবিয়ে মারা হয়।  যদিও রঘুনন্দন আঁটঘাট বেঁধে, পর্যাপ্ত সময় নিয়েই বেড়িয়েছেন কিন্তু পথের কথা কে বলতে পারে। নদীয়ার গ্রামের পর গ্রাম পার হয়ে মুর্শিদাবাদের প্রায় উপকণ্ঠে পৌঁছেছেন তিনি। এবারে পার করবেন নদীয়ার শেষ গ্রাম পলাশী। রঘুনন্দন কিছুটা নিশ্চিন্ত। মুর্শিদাবাদ জেলায় ঢোকার পরে নবাব-দরবারে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগার কথা নয়।  এমন সময় দূরে দেখা গেল কালো মেঘের মত একদল অশ্বারোহী। শ্রান্ত সৈনিকেরা নড়ে চড়ে উঠল। কিন্ত তারা বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার...
ইতিহাসের গল্প

একটি যাচ্ছেতাই গুল্প

ছবি
১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনে হলো আজকের দিনটা নষ্ট হয়ে যাবে যদি একটা ভালো গল্প পড়তে না পাই। এভাবে শুরুতেই দিনের উপর একটা সিদ্ধান্ত দেগে দিতে খারাপই লাগল কিন্তু কিছুতেই মন থেকে চিন্তাটা বের করতে পারলাম না। বই আমি অনেকই পড়ি কিন্তু আমার কাছে বই তেমন থাকে না। আজকাল বইয়ের যা দাম, আমার তুচ্ছ পকেট মানিতে তা কুলোয় না। যাও বা একটা অধটা কিনে ফেলি তা ঠিক কারোর না কারোর পছন্দ হয়ে যায়। তারপর বই ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সেই পুরোনো প্রথার পুনরাবৃত্তি চলতেই থাকে। আজকাল তাই দু একটা যা কিনে ফেলতে পারি তা কিনে কিনেই ফ্রিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখি। ফ্রিজটার শেষ থাকের নীচে সবজি রাখবার একটা প্লাস্টিকের মুখ খোলা বাক্স আছে। সে বাক্সে বাকি সবার বাড়িতে তরি-তরকারি থাকে। আমাদের বাড়িতে বই। সবজি আমি প্রতিদিন বাজার করে অনি। ফ্রেশ।  ফ্রিজে তিনটে বই ছিল। দুটো গল্পের। এবছরই বইমেলায় কেনা। তার একটা বের করে বালিশের নীচে রেখে দিলাম গরম হওয়ার জন্য। ততক্ষনে বাজারটা হয়ে যাবে। ২. বাজার করে ফেরার পথে হঠাৎ ধ্রুবর সাথে দেখা। দেখেই বলে - ভাই আমার একটা ছোট্ট কাজ করে দিবি? ধ্রুবর সব কাজই ছোট কাজ। হ্যাঁ, না'য়ের অপেক্ষা না করেই পকেট থ...
বানানো গল্প

ফুটপাথের দোকান - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ছবি
গত দুচার বছরে পত্রভারতী প্রকাশনী থেকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের নানা লেখা কুড়িয়ে বাড়িয়ে বেশ কয়েকটা বই প্রকাশিত হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া লেখা, সিন্দুক খুললেই চল্লিশ ইত্যাদি। ফুটপাতের দোকান সেই ধরনের বইগুলোর মধ্যে একটা। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখার এক অমোঘ টান আছে। মিঠে শব্দের নিজস্ব অভিধান আর মন জুড়িয়ে দেওয়া বাক্যের একটা স্বতন্ত্র ব্যাকরণ যেন তাঁর হাতে রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যারা ওনার লেখা পড়েছেন তাদের কাছে ব্যাপারটা কমন। এই বইটিও পড়তে তাই মন্দ লাগেনা। মনোহারী দোকানের হরেক জিনিসের পশরার মত নানা ধরনের লেখা দিয়ে এই বই সাজানো। কিন্তু অন্তত আমার কাছে কয়েকটি মাত্র লেখা বাদে আর কোনো লেখাতেই নতুনত্ব কিছু নেই। নতুনত্ব অর্থাৎ সেই সব কথা যা এখনও অবধি শীর্ষেন্দু তার কোনো রচনাতেই বলেননি। এমন হতেই পারে। সব লেখাতেই নতুন কিছু বলার থাকবে এমন আশা করা ঠিক নয়। কিন্তু যে লেখক ট্যাংকিসাফের মত গল্প, ঘুণপোকার মত উপন্যাস লিখেছেন তাঁর কাছে পাঠকের আবদার একটু বেড়েই যায়। এই বইটিতে বিমল কর ও তাঁর সাহিত্য নিয়ে একটি সুন্দর প্রতিবেদন আছে। আর আছে চানাচুরতন্ত্র নামে একটি মুক্তগদ্য। আমার মত পাঠকের কাছে ...
বইপত্রের গল্প

লকডাউন

  ১ জানলার সামনে ঠিক দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে একটা বুড়ো পায়রা এসে বসে। তার পালকগুলো অগোছালো। কোথাও কোথাও উঠেও গিয়েছে। শীর্ণ দেহ। দেখে মনে হয় সে বহু যুদ্ধের ক্লান্ত সৈনিক। এতদিন খেয়াল করিনি। এ সময়ে অফিসে থাকি। শনি রবিবার সময়টা চলে যায় হয় ঘুম নাহলে খাওয়া অথবা কম্পিউটার ঘাঁটতে ঘাঁটতে। ফ্ল্যাটের ব্যালকনি তে দাঁড়ালে সারি দিয়ে দেখা যায় এই এলাকার অন্যান্য আবাসন গুলো। কখনো কখনো দেখি আমার মতোই বন্দী মানুষেরা গ্রিলের উপর হাত রেখে বড় উদাস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। গরম পড়েছে। ভীষণ গরম। কিন্তু এদেশে তো বৈশাখ মাস নেই তাই কালবৈশাখী হয়না। সূর্য ডোবে দেরিতে। ছটার পর ছাদে উঠলে স্নেহ মমতা মেশানো হাওয়া বয়। ওখানেই আমাদের পিজির বাকি বোর্ডারদের সাথে গল্প, কখনো গান , বাড়ি থেকে অফিসের কাজ আর ভাইরাস নিয়ে আলোচনা। এ আলোচনা একসময় থেমেও যায়। ছাদের উঁচু কার্নিশ ধরে দাঁড়িয়ে দূরে চেয়ে থাকে কয়েকজন । ছোট্ট স্পিকার এনে কখনো গান চালানো হয়। কেউ কেউ লোহার মই বয়ে জলের ট্যাঙ্কির কাছে পৌঁছে যায়। ছাদ জুড়ে চলতে থাকে পায়চারি। ঠিক এমন সময় লাল হতে হতে টুক করে সূর্য ডুবে যায়। অন্য দিকে জলছবির মতো আবছা উঁকি দেয় নিষ্প্রভ চাঁদ। এ এক প্রায় বিচ...
চিন্তার ব্যাপার জীবনের গল্প

ঠিক সিনেমার গল্প

  ১ কলকাতা থেকে শ দেড়েক কিলোমিটার দূরে NH - ৩৪ এর উপর এই গ্রাম। কাছেই স্টেশন আর মেন্ রাস্তার বাস স্টপেজ থাকায় আশেপাশের এলাকার থেকে একটু গমগমে। আবার ইতিহাসের পাতায় এই এলাকার নামও আছে। তবে বেড়ানোর জায়গা একে বলা যায়না। তেমন দ্রষ্টব্যঃ কিছু তো নেই। ইতিহাসে নাম থাকলেও সে ইতিহাস বড় সুখের নয়। তাই তাকে বাঁচারনোর তাগিদও কম। তবু শীতের শুরু থেকে বসন্তের শেষ অবধি এখানে পরিযায়ী মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। নদীয়া মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের ফাঁকে যাদের হাতে কিছুটা বেশি সময় থাকে, তেমন কৌতূহলী মানুষেরা এখানে এক বেলা কাটিয়ে যায়। অন্য সময় কলকাতায় চাকরিজীবী যারা কালেভদ্রে দেশের বাড়ি দর্শন করতে আসতো তারাও প্রায় প্রতি সপ্তাহে একবার করে বাড়ি ফিরে আসে। আর আসে পিকনিক পার্টি। রীতিমতো গাড়ি ভাড়া করে , বাসন কোসন , বক্সস্পিকার এনে , রেঁধে বেড়ে , ব্যাটমিন্টন খেলে হৈ হুল্লোড় করতে। আমি এই এলাকারই ছেলে। মাস্টার ডিগ্রি পাশ দিয়ে এখন দু চারটে টিউশন করি। সারা দিনে চার পাঁচ ঘন্টা পড়ানোর পর অখণ্ড অবসর। তবে এই সময় আমার চাহিদা বেশ বেড়ে যায়। বন্ধুরা কলকাতা থেকে ফিরলে দফায় দফায় তাদের সাথে চায়ের আড্ডা চলে। কখনো ঘুরতেও বেরোতে হয়। স...
বানানো গল্প

নীলা (১)

নীলাকে আমার ভালোলাগে। নীলাকে ভালোলাগে শুধু এই জন্যে নয় যে নীল রং আমার ভীষণ প্রিয় আর নীলার নামে সে রঙের রেশ পাওয়া যায়। বরং নীলাকে ভালোলাগার যে অকারণগুলো আছে এটি তার একটা। নীলাকে দেখলে আমি একটা সিগারেট ধরাই। সিগারেট আমি খাই না। পকেটে রাখি। নীলকে দেখলেই আমার নিজেকে খুবই হালকা লাগে। যে কেউ তখন আমাকে এক ফুঁ'য়ে উড়িয়ে দিতে পারে। দু আঙুলের ফাঁকে সিগারেট থাকলে পুরুষদের ব্যক্তিত্ব অনেকটা বেড়ে যায়। তখন আর তাকে হেলাফেলা করা যায়না। আমি জানি নীলাও আমাকে দেখে। নিশ্চয় দেখে। নীল পাঞ্জাবি , হাতে জ্বলন্ত সিগারেট , গালে দিন চারেকের না কাটা দাড়ি, চোখে চৌকো কালো ফ্রেমের চশমা। এমন ছেলেকে সহজে এড়ানো যাই কি? আমি আয়নায় দেখেছি। বাহ বেশ বেশ লাগছে তো। নীলা নিশ্চয়ই দেখে। কিন্তু নীলার চোখের দিকে আমি আজও সরাসরি তাকাইনি। অঞ্জলি দেওয়ার সময় যখন নীলা চোখ বন্ধ করে ঠাকুরকে নম করে। তারপর ঠোঁট দুটো মৃদু কাঁপিয়ে নমস্তুতে বলে ফুল ছুঁড়ে দেয়। তখন আমি দেখেছি নীলার প্রতিটা অস্ফুট মন্ত্রোচ্চারণের সাথে সাথে আলিপুরের অকাল বর্ষণের পূর্বাভাস মিথ্যে হয়ে যাচ্ছে। তারপর প্রসাদ বিতরণের সময় আসে। একেক করে সবার নাম ডেকে ভীষণ ব্যস্ত ব্যস্...
বানানো গল্প